রবিবার, অগাস্ট ৯, ২০২০ ইং | শ্রাবণ ২৪, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৭ জ্বিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অর্থ ও বাণিজ্য / উৎপাদিত ‘পোশাক’ এর দায় শোধ করছে ধরিত্রী!

উৎপাদিত ‘পোশাক’ এর দায় শোধ করছে ধরিত্রী!

অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি যে পোশাক উৎপাদনের জন্য দায় শোধ করতে হচ্ছে পৃথিবীকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের পৃথিবীও একটা নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদান করছে। একটি কারখানায় পোশাক, তার তুলা প্রভৃতি উৎপাদনে ব্যবহূত হয় পানি, সার, আর শক্তি— আর এ পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি টি-শার্ট তৈরি হতে পৃথিবীকে খরচ মেটাতে হয় তিন দশমিক চল্লিশ ডলার।

পরিসংখ্যানটির জন্য কেস স্টাডি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল ডেনমার্কের পোশাক পরিবেশক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তাতে পোশাক উৎপাদনে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে ডেনমার্ক একাই পরিবেশের ক্ষতি করছে প্রতি বছর প্রায় ৫১০ মিলিয়ন ডলার। ডেনমার্কের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ক্রিস্টেন ব্রসবল বলছেন, ‘এ ক্ষতি আরো বেশি।’

তুলা উৎপাদন থেকে শুরু করলে বিপুল পরিমাণ সার আর পানির খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে চামড়া প্রক্রিয়াজাত আর জিপার তৈরির সময়ও বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, ফলে জলবায়ুর ওপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। ব্রসবল এক বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা এখন আর্থিকভাবে সঠিক ক্ষতির অংকটা জানি, যদিও আমাদের সব পোশাকই তৈরি হয় দেশের বাইরে। কিন্তু তার পরও আমরা দায়িত্ব এড়াতে পারি না কোনোভাবেই। আমি শিল্প-কারখানাগুলোকে বলব, উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে, পরিবেশের ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।’
ডেনমার্কের পোশাক ব্র্যান্ডগুলো স্থানীয়ভাবে ও দেশের বাইরে পোশাক প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় যুক্ত, দেশের ভেতরে অবশ্য তাদের সক্রিয় গার্মেন্ট শিল্প খুবই সীমিত পর্যায়ে। কিছু সেলাই-ফোঁড়াইয়ের সাধারণ কারখানা ছাড়া ডেনমার্ক তুলা উৎপাদন কিংবা পলিয়েস্টার কিংবা অন্য ধরনের বস্ত্র বাজারজাতে সরাসরি যুক্ত নয়। ডেনমার্কের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ প্রতিষ্ঠানই তৈরি পোশাক পুরোপুরি বাইরে থেকে আমদানি করে থাকে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ডেনমার্কের পোশাকসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাইরে জলবায়ুর ক্ষতিসাধনে ভূমিকা রাখছে।
‘আমরা যারা পোশাক শিল্পে যুক্ত আছি, তারা সবাই সচেতন যে, আমরা বেশ বড়সড় একটা পরিবেশজনিত চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি’, বলেন আইসি গ্রুপের করপোরেট ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মর্টেন লেহমান। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখন আরো সতর্ক হয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এ ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার।’
গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর আইসি গ্রুপ এরই মধ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন এনেছে। লেহমান যোগ করেন, ‘আমরা এরই মধ্যে চীনের কারখানায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিগর্মন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি; শুরুতে আমরা মনে করেছিলাম, কার্বন ডাই-অক্সাইড নিগর্মনের ঘটনা ঘটছে শুধু কারখানার বাইরে কাঁচামাল উৎপাদনে।’

আরও পড়ুন একই নারীর নামে হাজার শিশুর নাম

আরও পড়ুন

১০০ টাকার প্রাইজবন্ড ড্র

০৫ অগাস্ট ২০২০

অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের সর্বশেষ ১০০তম 'ড্র'। এই... বিস্তারিত এখানে

অনলাইনে ক্রেতা বেশি, হাটে হাহাকার

৩০ জুলাই ২০২০

মহামারীর মধ্যে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চালু করা পশুর অনলাইন... বিস্তারিত এখানে