বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২০ ইং | চৈত্র ১৯, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৬ শাবান, ১৪৪১ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অর্থ ও বাণিজ্য / চীনের বাজার ধরছে বাংলাদেশ

চীনের বাজার

চীনের বাজার ধরছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্র। রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই বাজারটিতে পোশাক রপ্তানি কমে যায়। দীর্ঘ ১৫ মাস পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ায়। গত আট মাসে  বাজারটিতে ৩৬৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে চীন। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চীন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১ হাজার ৭২৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা যদি কোনো সমস্যা না করেন, তাহলে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ শেষ হলেও ক্রেতারা সহজে চলে যাবে না।’

প্রায়ই একই তথ্য দিলেন ক্ল্যাসিক ফ্যাশন কনসেপ্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল্লাহ আজিম। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়াদেশ বাড়ছে। নতুন ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইনকোয়ারি আসছে। পুরোনো ক্রেতাদের মধ্যে আগে যারা দেড় লাখ পিস পোশাক তৈরি করাত, তারা এখন তিন লাখ পিসের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে।’

রপ্তানি আয় কমার সঙ্গে সঙ্গে চীনের বাজার হিস্যাও কমে ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমেছে। ইউএস পলোর পোশাক তৈরি করে বাংলাদেশের জায়ান্ট গ্রুপ। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কারখানাটিতে ইউএস পলো ক্রয়াদেশ ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প লাভবান হবে। ইতিমধ্যে বাড়তি ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করেছে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর গত কয়েক বছরে আমাদের পোশাক কারখানাগুলোতে তিন ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। সে জন্য কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে বাড়তি ক্রয়াদেশ নেওয়ার জন্য অনেক কারখানাই প্রস্তুত হয়ে আছে।’

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান  বলেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধের সুবিধা আমরা একটু একটু করে পেতে শুরু করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান চীন থেকে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নিয়ে আসছে। যেমন-আমার কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রে যে ক্রেতার একটা স্টাইল গত পাঁচ বছর ধরে দুই লাখ পিস করছি, তারা এখন চার-পাঁচ লাখ পিসের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪-৫ শতাংশ হিস্যা হারাতে পারে চীনের পোশাক রপ্তানিকারকেরা।’

বিজিএমইএর এই সহসভাপতি বলেন, কারখানাগুলোতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক উৎপাদনের ভরা মৌসুম। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাজারটিতে পোশাক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।

আরও পড়ুন

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষের বাস ভারতে

২০ জানুয়ারি ২০১৯

বিশ্বের হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বব্যাংকের... বিস্তারিত এখানে

নজরদারিতে ৩ কোটি অবৈধ হ্যান্ডসেট

১২ জানুয়ারি ২০১৯

অবৈধ বা নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ... বিস্তারিত এখানে