বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯ ইং | চৈত্র ১২, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ রজব, ১৪৪০ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / ধর্ম ও জীবন / জাহাজীদের নামাজ রোজা

জাহাজীদের নামাজ রোজা

  • মির্জা মাহাবুব:
    আমরা যেদিন জাহাজে প্রথম পা রাখি একটি জায়গায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলি, সম্মানি সেই জায়গা,যাকে আপনারা “মুসাফির” বলে চিনেন (কোন সফরকাল ৪৮ মাইল বেশী হলে তাকে মুসাফির বলা হয়)।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহাজে আমাদের জন্যে কতই না সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন। সমুদ্রে থাকা অবস্থাই আমাদের জন্যে কোন নামাজ ফরয করেন নি তিনি , প্রতি ওয়াক্তে শুধু দুই রাকাত কসরের নামাজ ই যথেষ্ট করে দিয়েছেন (ফজর আর মাগরিব নামাজ ব্যতীত)।এমনকি জুমার দিনেও দুই রাকাত কসর।কসর আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো- কম করা, কমানো। ইসলামি শরিয়তে কোনো ব্যক্তি যদি ৪৮ মাইল (৭৮ কিলোমিটার) বা তারও বেশি দূরত্বের ভ্রমণে বাড়ি থেকে বের হন, তাহলে তিনি মুসাফির।

শুনলে অবাক হবেন রমজান মাসেও আমাদের উপর আল্লাহ রোজা ফরয করেন নি (তবে জাহাজ থেকে নেমে পরবর্তী তে প্রতিটি রোজার জন্যে একটি করে কাযা রোজা রাখতে হবে)।তারপরেও এইখানে সবাই রমজানেই রোজা রাখে,ঠিক আপনাদের মতই, এমন দিনও জাহাজীদের যায় যখন রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে ইফতার সময় হয় আর রাত ১১ টা ৩০ মিনিট সেহেরির শেষ সময় থাকে মানে ২২-২৩ ঘন্টার রোজা, এর মাঝেও কিন্ত জাহাজের সকল কাজ আমাদের চালিয়ে যেতে হয়।রোজা শেষে যখন ঈদ আসে তখন ঈদের জামাতও আমাদের জন্যে বাধ্যতামূলক করা হয়নি তবুও আমরা ঈদ জামাত আদায় করি ২০-২৩জন মিলে,শুধুমাত্র নিজের আত্নসন্তষ্টির জন্য।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনেই সমুদ্র এবং সমুদ্রের বুকে বিচরণশীল সকল জাহাজসমূহকে সকল প্রকার অশুভ শক্তি থেকে নিরাপদ ঘোষনা করেছেন (জিন জাতি কিংবা কোন প্রকার অশুভ শক্তি হতে),পবিত্র কোরান এই আল্লাহ বলেন,
” দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজ সমূহ তারই (নিয়ন্ত্রণাধীন) “.
– সূরা আর-রহমান (আয়াত : ২৪)

এই মুসাফিরদের উপর আর কতটুকু পরিমাণ রহমত দিলে,এই বিশাল হিংস্র জলরাশির উপর আমরা খুব ছোট একটি তুলার মত নিরাপদে ভাসতে পারি!! শুধু আমাদের দেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়,সারা বছরে পুরো দুনিয়াই সমুদ্রে দুর্ঘটনায় অত মানুষ আহতও হয় নাহ(আলহামদুলিল্লাহ)।এইভাবেই মুসাফির হয়ে মানুষের হাজার কোটি টাকার আমানত আমরা পৌঁছে দেয় দুনিয়ার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে।

হালালভাবে আমরা উপার্জন করি,আমাদের উপার্জিত অর্থ আল্লাহ সেইদিনই হালাল করে দিয়েছেন,যেইদিন আমরা সবকিছু ত্যাগ দিয়ে মুসাফিরের খাতায় নাম লিখিয়েছিলাম। চিন্তা করুন যেখানে আপনারা ঢাকা- চট্টগ্রামের ১০ ঘন্টা বাস জার্নি করলেই বিরক্ত হয়ে পড়েন,সেখানে একজন জাহাজী টানা ৬-১২ মাস জার্নির উপরেই থাকে,তাও আবার জন মানব শূন্য সাগরের বুকে!! যেখানে ২০-২৩ জন মিলে তারাই আলাদা একটি সমাজ!!

প্রভুর সৃষ্টির নিপুণ সমাহার এ সাগর। রাশিরাশি এ জল। ঈমানকে বৃদ্ধিকরণের উত্তম বিষয় সম্ভার। মানুষের বিবেকের সব জড়তা দূরীভূত হয়ে যাবে সমুদ্র নিয়ে ভাবলে।
সত্যের দিশার আলোক রেখায় পথ চলতে বাধ্য করবে ভাবুক সেই হৃদয়। মস্তিষ্ক বলতে বাধ্য হবে, নিশ্চয়ই এসবের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালা। এরও রয়েছে একজন নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক। অন্যথায় এ নদনদী, সাগর-পৃথিবী এমন সুন্দর ও সুচারুভাবে চলাচল অসম্ভব। কুদরতি স্বাতন্ত্র্যতা নিয়ে প্রত্যেকেই ছুটে চলছে আপন পথে। কোথাও কোনো সংঘাত নেই। বিশৃঙ্খলা নেই।

সাগরের অগণন কুদরতের মধ্যে মহাকুদরত সাগরের মিলন মোহনা। দুই সাগরের জলে পরস্পর সম্মিলন সত্তেও উভয়ের মাঝে অলংঘনীয় প্রাচীর। একে অপরের বুকে প্রবেশের পরও মহাফারাক বিদ্যমান উভয়ের মাঝে। রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,
‘তিনি পাশাপাশি দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন। উভয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরায় (প্রাচীর), যা তারা অতিক্রম করে না।’ (সূরা রহমান : ১৯-২০)
অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন সমান্তরাল করে। একটি সুমিষ্ট ও তৃষ্ণা নিবারক এবং অন্যটি লোনা ও নিস্বাদ। আর উভয়ের মাঝে রেখেছেন এক অন্তরাল ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর।’ (সূরা ফুরকান : ৫৩)
সত্যি ই অফুরন্ত সুযোগ করে দিয়েছেন জাহাজী নামক সেইসব মুসাফিরদের জন্যে!!

ভাল থাকুক জাহাজী নামক সেই সকল মুসাফির , ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে তাদের একজন হতে পেরে।
দোয়া করবেন জাহাজীদের জন্য।

আরও পড়ুন

আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবল বিলাসবহুল গাড়ি ভর্তি জাহাজ

২১ মার্চ ২০১৯

আটলান্টিক মহাসাগরে বিলাসবহুল গাড়ি ভর্তি ইতালিয়ান একটি কন্টেইনার জাহাজে ভয়াবহ... বিস্তারিত এখানে

স্বপ্ন যখন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং

০৪ মার্চ ২০১৯

বর্তমানে প্রচলিত পড়াশোনার বাইরে অনেক শিক্ষার্থী ব্যতিক্রমী বিষয়ে পড়াশোনা করতে... বিস্তারিত এখানে