a fantastic read মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ ইং | অগ্রহায়ণ ১৭, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ রবিউস সানী, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / স্বাস্থ্য বার্তা / নারীদের রক্তশূন্যতা

নারীদের রক্তশূন্যতা

site abattage gay এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা একটি প্রচলিত সমস্যা। শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে আমরা রক্তশূন্যতা বলে থাকি। অনেকের ধারণা, মেয়েদের খানিকটা রক্তশূন্যতা সব সময়ই থাকে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ধারণাটা মোটেও ঠিক নয়।

নারীদের স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পুরুষদের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কিছুটা কম। পুরুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৩.৫ থেকে ১৭.৫ গ্রাম। নারীদের রক্তে তা ১২ থেকে ১৫.৫ গ্রাম। কিন্তু এই মাত্রার চেয়ে কম হিমোগ্লোবিন থাকা স্বাভাবিক নয়। অনেকেই ভেবে থাকেন মেয়েরা মাসিক চক্রে ও সন্তান জন্মের সময় অনেকখানি রক্ত হারায়। তাই রক্তে ৯-১০ মাত্রার হিমোগ্লোবিন কোনো ব্যাপার নয়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে (১২ গ্রাম/ডেলি) থাকা মানেই এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা।

নারীদের হঠাৎ রক্তশূন্যতা ধরা পড়লে অনেকে ধরেই নেন যে মাসিকের সঙ্গে বেশি রক্ত যাচ্ছে বলে রক্তশূন্যতা হচ্ছে। এটাও ভুল ধারণা। ব্লিডিং পেপটিক আলসার, যকৃতের সমস্যা, পাকস্থলী বা অন্ত্রের কোনো ক্যানসার, পাইলসের মতো রোগ যা রক্তশূন্যতার জন্য দায়ী। এগুলো কেবল পুরুষদের হয়, নারীদের হতে পারে না—এমন ধারণা ঠিক নয়। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক নারীদের রক্তশূন্যতা হলে অন্যান্য জটিল রোগের ও ক্যানসারের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

*কি করে বুঝবেন?
রক্তশূন্যতার অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে-
– দুর্বল লাগা
-বমি ভাব হওয়া
-সারাদিন ঘুমঘুম ভাব
-চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া
-চোখ,জিহ্বা ফ্যাকাসে হওয়া।

*রক্তশূন্যতার কারণ-
গর্ভধারণকালে ও স্তন্যপান করানোর সময় আয়রনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এই চাহিদা পূরণ না হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এছাড়া অনেক সময় প্রসবে রক্তক্ষরণ এ জন্য দায়ী। তাই বলে এর কোনো চিকিৎসার দরকার নেই—এই ধারণাও ভুল। মায়ের গর্ভকালীন এনিমিয়া গর্ভস্থ শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, মায়ের হার্টেও জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই যথাযথ চিকিৎসা দরকার। থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত হিমোগ্লোবিনের ত্রুটি অনেকেরই থাকে।

*প্রতিকার-
১.’ভিটামিন সি’ খাদ্য থেকে সহজে আয়রন শোষণ করে দেহে যোগান দেয়। টমেটো, লেবু, টক জাতীয় ফল, ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। নিয়মিত এসব খাদ্য উপাদান খেলে রক্তে আয়রনের পরিমান বজায় থাকে।

২.খাদ্যতালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। যেমন মাংস, মাছ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি, কচু, কলিজা,কাঁচা কলা এসব খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

৩.প্রতিদিন এক চা চামচ মধু আর এক চা চামচ ভিনেগার খাওয়ার অভ্যাস করুন। মধুতে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার পাবেন, যা আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।

৪.প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন বি১২ আর ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। কমলা, কলা, মটরশুঁটি, দুদ্ধজাত খাদ্য, ডিম এইগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন বি১২ আর ফোলেট আছে যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে।

৫.অ্যানিমিয়ার রোগীর জন্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে সবচেয়ে উপকারী চিকিৎসা হল হাত, পা ম্যাসাজ করা। এতে করে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে।

রক্তশূন্যতার সমস্যা সাধারণত গর্ভধারণকালে এই সমস্যা প্রকট আকারে ধরা পড়ে। কেননা এই সময়ই অনেকের জীবনে প্রথম হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয়। তাই সব এনিমিয়াই যে আয়রনের স্বল্পতার জন্য হচ্ছে, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
তাই যারা রক্তশূন্যতায় ভোগেন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনেও রক্তশূন্যতা দূর করতে পারেন।

আরও পড়ুন দু্র্বলতা কমাতে স্যালাইন খাচ্ছেন

আরও পড়ুন

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে নিয়মগুলো মেনে চলবেন-

৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে চাইলে এই ১০ টা নিয়ম... বিস্তারিত এখানে

আলুর রসের উপকারিতা

২৫ জুলাই ২০২০

আলু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য তালিকায় একটা অংশ। সবজি হিসেবে... বিস্তারিত এখানে