বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১, ২০২১ ইং | মাঘ ৮, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ জামাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / শিক্ষাঙ্গন / বই পড়ে দেশ গড়ি!

বই পড়ে দেশ গড়ি!

বই পড়াটা আসলে অভ্যাসের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ছেলেমেয়েদের হাতে বই তুলে দিতে পারলে অভ্যাসটা তৈরি হয় খুব সহজেই।তবে পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশে পাঠ্যবইবহির্ভূত পড়াশোনা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তা হতে পারে গল্প, উপন্যাস বা কবিতার বই, ম্যাগাজিন, খবরের কাগজ ইত্যাদি।
এ যুগে সমাজে টিকে থাকার অন্যতম উপায় হলো তথ্য বা ইনফরমেশনকে নিজের মুষ্টিগত করে ফেলা।যে যত বেশি পড়ে, সে তত বেশি জানে।
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা তাদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার তেমন সুযোগ পায় না বললেই চলে।প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়, স্কুলের সময়ের বাইরে গৃহশিক্ষকের পড়া শেষে বাড়তি পাঠের জন্য সময় নেই।কিন্তু একুশ শতক পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাকে বাস্তবজীবনের জ্ঞানের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে।এই সমন্বয়টা অনেকখানি পোক্ত হয়, যখন আমরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষাকে আমলে নিই।

পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হওয়া।এতে করে কথা বলা ও লেখার ভাষার উন্নতি ঘটে।ফলে তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।যে যত বেশি বই পড়েন, তার গুছিয়ে কথা বলা ও লেখার ক্ষমতা তত ভালো।সর্বোপরি শব্দভাণ্ডার বিস্তৃতির মাধ্যমে বাড়ে আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও।
বই জানার পরিসীমা বাড়ায়।তাই প্রতিটি বই-ই বিরাট তথ্যভাণ্ডার।বিভিন্ন স্থান, প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন তো বটেই বই পড়লে বাড়ে আত্মবিশ্বাস।
বই পড়লে স্ট্রেস কমে।ভেবে দেখলেই বুঝতে পারি গল্পের বই পড়ার সময় আমাদের মন ফুরফুরে থাকে।কারণ খুব মনোযোগ দিয়ে যখন আমরা কিছু পড়ি, তখন তাতে আমরা ডুবে যাই।যার ফলে মস্তিষ্কে সাম্প্রতিক জট পাকানো দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, ভয় কিছু সময়ের জন্য হলেও দ্রবীভূত হয়।তাছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১ ঘণ্টা বই পড়লে সারা দিন পরিশ্রমের ফলে শারীরিক-মানসিক অবসাদ দূর হয়।
পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার অনভ্যাসের চিত্র আমাদের দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেকখানি একই রকম।তবে বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাটা একটু ভিন্ন।কারণ, ইংরেজি ভাষাটা তাদের দখলে থাকলেও বাংলা ভাষায় তারা অনর্গল পড়তে বা লিখতে পারে না।সে ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় লেখা বইগুলো তাদের তেমন পড়া হয়ে ওঠে না!তার পরও এ কথা সত্য যে ইংরেজি ভাষার বইও ছেলেমেয়েরা নিয়মিত পড়ে না।ঢাকা শহরের স্বনামধন্য স্কুলের একজন শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, স্কুলের পড়াশোনার এত চাপ, ছুটি ছাড়া বাইরের বই পড়ার আসলে তেমন সুযোগ নেই।তাই এ অবস্থার পরিবর্তনে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের বইমেলায় নিয়ে যেতে পারেন। নিয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন পাঠাগারে।
আমরা যদি পড়ি, তখন মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।যারা যত বেশি পড়েন, তাদের মস্তিষ্ক তত বেশি কর্মক্ষম থাকে, ফলে চর্চা অব্যাহত থাকায় বয়সের কারণে ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

মূলত, পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই ছেলেমেয়েদের মনে একটা নতুন জগতের দরজা খুলে দিতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

ব্রাজিলের ফার্স্ট লেডিও করোনায় আক্রান্ত

৩১ জুলাই ২০২০

সদ্য কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। চিকিত্‍‌সা... বিস্তারিত এখানে

হাসপাতালে ভর্তি সোনিয়া গান্ধী

৩১ জুলাই ২০২০

হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির... বিস্তারিত এখানে