রবিবার, জুলাই ৫, ২০২০ ইং | আষাঢ় ২০, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১২ জ্বিলকদ, ১৪৪১ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অর্থ ও বাণিজ্য / বাংলাদেশী আলুর রপ্তানি বাড়ছে

বাংলাদেশী আলুর রপ্তানি বাড়ছে

বর্তমানে আলু রপ্তানি বেশি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়।এক তথ্যে জানা যায় ২০১৭ সালে আলুর মৌসুমে বিশ হাজার টন আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। তবে তা হচ্ছে একমুখী কৃষিপণ্য হিসেবে।এ ক্ষেত্রে সরকার যদি আলুকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে মূল্যায়ন করে, তখন বহুমুখী রপ্তানি সম্ভব।
মালয়েশিয়া ছাড়া ও ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, জাপান, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আলু রপ্তানি হচ্ছে।এসব দেশগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশের আলুর চাহিদা।পূর্বে বাংলাদেশের আলুর বড় ক্রেতা ছিল রাশিয়া।কিন্তু বাংলাদেশের আলুর মধ্যে ভাইরাস পাওয়ায় রাশিয়া বাংলাদেশ থেকে আলু নেওয়া বন্ধ করে দেয়।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আলু উৎপাদিত হলেও দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও জেলায় বেশি পরিমাণ আলু উৎপাদিত হচ্ছে।উৎপাদিত উন্নতজাতের আলুর মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড, গ্রানূলা, কুমারিকা ও সাগিতা জাতের আলু যা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।এসব আলুর ওজন প্রতিটি ৮০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হচ্ছে।
ইদানিং উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু উদ্যেক্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু উৎপাদনে নেমেছে।এতে করে আলু চাষিদের মাঝে নতুন করে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।আলু চাষিরা জানান, “আগে আলু চাষ করে ন্যায্য মূল্য পেতাম না,বর্তমানে আলুর চাষ বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।” জমি থেকে আলু সংগ্রহের পর আলু বাছাই, গ্রেডিং, ওজন, প্যাকিং, ট্রাকে লোডকরাসহ বিভিন্ন কাজে অনেক লোক নিয়োজিত হচ্ছে।এসব শ্রমিকের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। আলু রপ্তানি হওয়ায় চাষিরা ব্যাপকভিত্তিতে আলু চাষের উদ্যোগ নিচ্ছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানিযোগ্য ভোগ্যপণ্যের ছাড়পত্র দেয় উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র।উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বন্দর ও নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থার কারণে ভারত ও পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে কম দামে আলু রপ্তানি করতে পারে।ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে এ দুই দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।তবে অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের আলু অনেক সুস্বাদু। বিদেশে বড় আকারের আলুর চাহিদা বেশি।তাই আলু রপ্তানি করতে হলে কৃষককে বড় আকারের আলু উৎপাদন করতে হবে।এ ছাড়া রোগ ও পোকামুক্ত আলু রপ্তানি করতে পারলে এশিয়া ছাড়াও অনেক দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৯৯১ সালে ২০টি দেশ থেকে বাংলাদেশে আলু আমদানি হতো।বর্তমানে উল্টো ২৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।২০১৭ সালে দেশে মোট ৫ দশমিক ২৮ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১৩ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়।অথচ আমাদের মোট চাহিদা ৬৫ লাখ টনের কিছু বেশি। সে তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ৪০ হাজার টন।তাই চাইলে বাকি উৎপাদিত আলু রপ্তানি করতে পারবেন কৃষক।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিভিন্ন দেশ চিপস তৈরির কাঁচামাল হিসেবে আলু আমদানি করে।তবে সেই আলুর প্রতিটির ওজন হতে হয় ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম। এ বছর গ্রানুলা, ডায়মন্ড, কুমারিকা ও সাগিতা জাতের সাদা রঙের আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। কার্টন তৈরি হচ্ছে সাড়ে ৪ কেজি, ৯ কেজি ও ১০ কেজি ওজনের। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি এসব আলু সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও পাঠানো হচ্ছে। ওই দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পর রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আলু কিনে রপ্তানি করা হয়।
আলুর বহুমুখী রপ্তানি সম্ভব হলে দেশের প্রান্তিক চাষিরাই সবচেয়ে লাভবান হবে।

আরও পড়ুন

৯ এপ্রিল জুমা রাত্রিতে পবিত্র শবে-বরাত

২৬ মার্চ ২০২০

আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। আজ... বিস্তারিত এখানে

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ঐতিহাসিক... বিস্তারিত এখানে