মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ ইং | মাঘ ১৩, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ জামাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / লাইফস্টাইল / ভ্রমণ:সিকাম তৈসা ঝরনা,সাজেক ভ্যালি

ভ্রমণ

ভ্রমণ:সিকাম তৈসা ঝরনা,সাজেক ভ্যালি

সেই কবে থেকে সমুদ্র ও পাহাড় তাদের বিশালতা নিয়ে মানুষ কে আকর্ষন করে আসছে।এই বিশাল সৃষ্টির পাশে মানুষ বারে বারে ছুটে যেতে চায়, এর সৌন্দর্যের অংশ হতে চায়, অল্প সময়ের জন্য হলেও।

সাজেক ভ্যালি বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের জায়গাগুলোর অন্যতম। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সাজেকের নিচেই রয়েছে ছোট-বড় তিনটি ঝরনা-ঝিরিপথ ও অসংখ্য ক্যাসকেড।
রাতের গাড়িতে চড়ে সকালে গিয়ে নামি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।ফোন দিই চান্দের গাড়িওয়ালাকে।ড্রাইভার জানায়, সাজেক রোডে ভূমিধস।গাড়ি সব আটকা।ক’টা নাগাদ ঠিক হতে পারে— জানতে চাইলে সে বলল, সেনাবাহিনী কাজ করছে, সময়ের নিশ্চয়তা নেই।কী আর করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিছু করার নেই।তবে হাল ছাড়িনি, অগত্যা হাইরিস্ক মোটরবাইকই ভরসা।পাহাড়ি উঁচু-নিচু প্যাঁচানো পথে যখন বাইক ছুটে চলেছে, তখন মনে হয়েছে— যেন আমরা রোলার কোস্টারে করে ছুটে চলেছি সবুজের কার্পেট মাড়িয়ে নীল দিগন্তের রাজ্যে।
দু’চাকার বাহন হওয়ায় কোনো রকমে অতিক্রম করে ভর সন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছাই সাজেকের রুইলুইপাড়া।আগেভাগেই কটেজ বুকিং ছিল একেবারে পাড়ার মুখেই।ভেতরে যেতেই চোখ ছানাবড়া, ওয়াও!এ যেন শুভ্র মেঘের ঢেউয়ে পুরো কটেজ ভেসে চলেছে। সঙ্গে পূর্ণিমা রাত। সত্যিই এক অসাধারণ ভিউ।আকাশে অসংখ্য তারার মেলা, সঙ্গে ভরা জোছনার আলো।যেন চান্দের বাতির যৌবন উথলে পড়ে।কিছুটা সময় গান-কবিতা-আড্ডার সঙ্গে জোছনার আলো উপভোগ করে ফিরি রুইলুইপাড়া।
পরদিন ফজর নামাজ পড়েই স্থানীয় এক ত্রিপুরা গাইড নিয়ে এগোই তৈসার দিকে।
সাজেকের আইকন রুন্ময় হতে একটু ডানে এগিয়ে স্কুলের পেছন দিকের জংলি পথ ধরে হাঁটতে থাকি।অল্প কিছুদূর যেতেই লতা-গুল্ম দিয়ে ঘেরা একটি ক্যাসকেড থেকে পানি পড়ার শব্দ পাই।
এর পরের কাহিনী অন্য রকম।একেবারে আদিম জংলি পথে হাইকিং।কখনো আবার ৬০-৬৫ ডিগ্রি খাড়া হয়ে নেমে যাওয়া পিচ্ছিল পথে ট্রেইল শেষে পেয়ে যাই পাথুরে ঝরনা তৈসা।
নব আনন্দচিত্তে, ঝিরির পথ ধরে কাত হয়ে থাকা বড় বড় গাছের ফাঁক গলে বিশাল বিশাল বোল্ডার মাড়িয়ে এগিয়ে যাই সিকামের দিকে।আধা ঘণ্টার মধ্যেই দেখা মেলে ইয়া উঁচু থেকে পানি পড়তে থাকা সিকাম তৈসা ঝরনা।
সিকাম তৈসা ঝরনার উচ্চতা ৮০-৯০ ফুট। ঝরনাটির অবস্থান সিপ্পু পাহাড়ের পাদদেশে।প্রায় দুই হাজার ফুট নিচে অনেকখানি জায়গাজুড়ে ঝিমঝিম শব্দ তুলে অবিরাম ধারায় আপন ছন্দে সিকামের পানি পড়ে।আশপাশের পুরো পরিবেশটাই মন মাতানো বুনো গন্ধে ভরা। অবাক বিস্ময়ের সিকাম তৈসা ঝরনাটি যেন নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমাখা লীলাখেলার প্রতিমা।বিশাল বিশাল সেগুন-গর্জনের ছায়ায় আপন গতিতে ছন্দ তোলা সিকাম তৈসাকে অনেকে কংলাক ঝরনা নামেও চেনে।সিকাম তৈসার মায়াবি পরিবেশে অন্তত একরাত তাঁবু টানিয়ে না থাকতে পারাটা যেন জীবনের স্বাদ, আহ্লাদ অপূর্ণ থেকে যাওয়ারই নামান্তর।সিকামের প্রেমে মজে যাই, তবুও যে ফিরতে হয়।গাইডের সময় সংকেত।তাই আর দেরি না করে ফিরতি পথ ধরি। কিছুটা পথ এগিয়ে আবারো পিছু ফিরে তাকাই। বিদায় সিকাম বিদায়।

কীভাবে যাবেন: ঢাকার গাবতলী-ফকিরাপুল-সায়েদাবাদ থেকে দিনে-রাতে প্রতিদিন খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন পরিবহনের এসি/নন এসি বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৫২০-৯০০ টাকা মাত্র। খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, বাঘাইহাট থেকে বাইক, জিপ বা মাহিন্দ্রতে চড়ে সাজেক ভ্যালির রুইলুইপাড়া। এরপর সাজেকের প্রাইমারি স্কুলের ডান পাশ দিয়ে ট্রেইল। গাইডের খোঁজ পেতে কটেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিতে পারেন। গাইড খরচ ৪০০ টাকা।

তবে ভ্রমণপিপাসু বন্ধুদের খেয়াল রাখতে হবে, মুগ্ধ করা প্রকৃতির নজরকাড়া সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে যেন মনের অজান্তেও নিজ হাতে ধ্বংস/নোংরা না করি আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

আরও পড়ুন

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে নিয়মগুলো মেনে চলবেন-

৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে চাইলে এই ১০ টা নিয়ম... বিস্তারিত এখানে

কিডনির যত্ন নেয়া হোক এখন থেকেই

২৪ জুলাই ২০২০

আমরা নিজেরা সুস্থ দাবী করি ততক্ষণ, যতক্ষণ আমরা ডাক্তারের কাছে... বিস্তারিত এখানে