রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ ইং | অগ্রহায়ণ ১৪, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ রবিউস সানী, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অন্যান্য / মিনিকেট চালে প্রয়োজনের অর্ধেকও জিংক নেই

চাল

মিনিকেট চালে প্রয়োজনের অর্ধেকও জিংক নেই

জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে আসা আন্তর্জাতিক সংস্থা হারভেস্টপ্লাসের এক গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে যে , ভোক্তাদের অন্যতম পছন্দের চাল

মিনিকেটে জিংকের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৬ দশমিক ৩৬ পিপিএম। মূলত ধান থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় চালের উপরিভাগের পুষ্টিযুক্ত অংশ ফেলে

দেয়ার কারণে জিংক ও পুষ্টিগুণ হারায় মিনিকেট।

কিন্তু সেখানে মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণে প্রতি কেজি চালে ১২ পিপিএম জিংক থাকা প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে হারভেস্টপ্লাস আয়োজিত ‘ইমপ্রুভিং নিউট্রিশন থ্রু বায়োফরটিফায়েড ক্রপ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খায়রুল বাশার।

গতকালের কর্মশালায় হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খায়রুল বাশার দেশের মানুষের জিংক ঘাটতির নানা দিক তুলে ধরে বলেন, পাঁচ বছরের নিচে এমন বয়সী ৪১ শতাংশ শিশু এখনো জিংক স্বল্পতায় ভুগছে। আবার বিভিন্ন বয়সী ৭৩ শতাংশ নারীরও রয়েছে জিংক স্বল্পতা। পাঁচ বছর বয়সী তিনজন শিশুর মধ্যে একজন খর্বাকৃতির। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ এখন উচ্চমাত্রার অপুষ্টির ঝুঁকিতে। পুষ্টিনিরাপত্তাকে স্বাস্থ্যগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা না করে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

পুষ্টিনিরাপত্তায় বায়োফরটিফায়েড শস্য অন্যতম বিকল্প হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৬টি বায়োফরটিফায়েড শস্য জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত, তিনটি জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধ মসুরের জাত, একটি জিংকসমৃদ্ধ গমের জাত এবং চারটি ভিটামিনসমৃদ্ধ মিষ্টি আলুর জাত। পুষ্টিনিরাপত্তা বাড়াতে গেলে সামনের দিনে আরো বায়োফরটিফায়েড শস্য জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করতে হবে।

‘মিনিকেট’ নামে বাংলাদেশে অনুমোদিত কোনো ধানের জাত না থাকলেও মূলত ব্রি ধান ২৮ কিংবা ব্রি ধান ২৯, কল্যাণী, স্বর্ণা, গুটিস্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, ব্রি ধান ৫০, জাম্বুু ও কাজললতা এমন সব বিভিন্ন জাতের চাল ছেঁটে মিনিকেট বলে বাজারে বিপণন করা হচ্ছে। একশ্রেণীর চালকল মালিক ভোক্তাদের বোকা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটা চাল সরু করে তা মিনিকেট নামে চালিয়ে যাচ্ছে। কাটিং, পলিশ ও কালার ঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন কেমিক্যাল। এতে চালের পুষ্টিগুণ যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি তা মানবদেহে নানা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ব্রি) গবেষণা পরিচালক ড. তমাল লতা আদিত্য বণিক বার্তাকে বলেন, এক ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছে মিনিকেট নামের চাল বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ মিনিকেট নামে কোনো জাত বাংলাদেশে উদ্ভাবন হয়নি। ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের চালগুলোকে ছেঁটে চিকন করে বিপণন করে থাকে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। যেহেতু এ বৈশিষ্ট্যের চাল দেশে ব্র্যান্ডিং হয়ে গেছে, সেজন্য পুষ্টিগুণ বজায় রেখে মিনিকেটের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চালের বেশকিছু জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ব্রি ধান ৫০, ব্রি ধান ৬৩ এবং ব্রি ধান ৮১ জাত তিনটি বোরো আবাদে মিনিকেটের বিকল্প হিসেবে আবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রি ধান ৫৭ জাতটি আমন ধানে জনপ্রিয় করা হচ্ছে। এসব জাতে মিনিকেটের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মিনিকেট চালে সবচেয়ে কম জিংক রয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি জিংক পাওয়া গেছে নাজিরশাইলে, প্রতি কেজিতে ১২ দশমিক ৯২ পিপিএম। এর পরই কাটারিতে ১১ দশমিক ৩৯ পিপিএম, স্বর্ণায় ৮ দশমিক ৯ পিপিএম, বাংলামতিতে ৭ দশমিক ৬২, ব্রি ধান ২৮ চালে ৯ দশমিক ৬৮ এবং অন্যান্য চালে ১০ দশমিক শূন্য ৪ পিপিএম মাত্রায় জিংক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য নাজিরশাইলের ১২, কাটারির ১৬, স্বর্ণার ১৭, বাংলামতির ১৬, ব্রি ধান ২৮ জাতের ২৩, মিনিকেট চালের ৩০ এবং অন্যান্য চালের ২১টি স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। এসব স্যাম্পল পরীক্ষা করে জিংকের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈজ্ঞানিক মিলিং প্রক্রিয়ার কারণে বিভিন্ন চালের পুষ্টিগুণ নষ্ট হচ্ছে। এজন্য সঠিক ও কার্যকর মিলিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চালের পুষ্টিগুণ ধরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জিংকসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ ছাড়া দেশে পুষ্টিনিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্দির

পথে মন্দির, তাই পিরিয়ড চলাকালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ

২৮ নভেম্বর ২০১৮

দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম চলে আসছে সেখানে । এমন আজব... বিস্তারিত এখানে

নির্বাচন কমিশন

সোশাল মিডিয়া নিয়ে বসছে নির্বাচন কমিশন

২৪ নভেম্বর ২০১৮

মোবাইল ফোনের এসএমএসে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিধি ভেঙে আগাম... বিস্তারিত এখানে