মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ ইং | আশ্বিন ১৩, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ সফর, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / স্বাস্থ্য বার্তা / লিভার সিরোসিস থেকে মুক্তির উপায়

লিভার সিরোসিস থেকে মুক্তির উপায়

লিভার কিংবা যকৃত শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি। এতে কোনো সমস্যা হলে শরীরের অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। লিভারের অনেক রোগের মধ্যে লিভার সিরোসিস একটি। সাধারণত লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে এই অসুখ জন্ম নেয়।

এই অসুখের প্রভাবে লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তবে অনেকেরই একটি ধারণা রয়েছে, কেবল অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এই অসুখ হানা দেয়। তবে গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের মতে, মদ্যপান ছাড়াও প্রতি দিনের বেশ কিছু ভুল অভ্যাসের জেরেও এই অসুখ আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু চাইলে খুব সহজেই আমরা এর থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারি। চিকিৎসকদের মতে, লিভার এমনই এক অঙ্গ, যার অনেকটা নষ্ট হলেও একটু নিয়ম মানলেই আবার লিভারের স্বাস্থ্য ফেরে । সামান্য সতর্কতায় লিভার সিরোসিসের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।

১. মদ্যপান
আমরা সকলেই জানি লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানে রাশ টানুন আজই। এটি পরিত্যাগ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

২. সহজপাচ্য খাবার
হজমশক্তিকে বাধা দেবে না এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে কি? অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কবলে পড়ে প্রায় রোজই তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন অনেকেই। এতে সিরোসিস অব লিভারের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি।   মশলাদার খাবার, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে বরং আস্থা রাখুন সবুজ শাক-সব্জি ও কম তেল-মশলার খাবারে। অনেকে সময় পেলেই বাইরে খেতে চলে যান। কিন্তু বাইরের ভাজাপোড়া খাবার অনেকবেশি অস্বাস্থ্যকর। তাই এটি এড়িয়ে চলুন।

৩. পিঁয়াজ-রসুন
কাঁচা পিঁয়াজ ও রসুন শরীরের টক্সিনকে বার করে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রতি দিন মেনুতে কিছুটা কাঁচা পিঁয়াজ ও রসুন রাখুন।

৪. প্রক্রিয়াজাত খাবার
দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় এমন খাবারে অভ্যস্ত? তা হলে এই স্বভাব আজই ত্যাগ করুন। বোতল ও টিনজাত খাবারের রমরমা লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারণ। প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণক্ষম খাবার অর্থাৎ সস, বোতলজাত ফলের রস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, বেকারিজাত স্ন্যাক্স- এ সব যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। অনেকেরই একটি অভ্যাস আছে, একটু গরম পরলেই কোল্ড ড্রিঙ্ক খান। অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিঙ্ক খাবার ফলে লিভারে মারাত্মক ক্ষতি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে চা,কফি খাওয়া ও এড়িয়ে চলুন।

৫. ব্যথানাশক
অনেকেই আছেন যাদের সামান্য মাথাব্যথা অথবা শরীরব্যথা হলেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে নেন।কিন্তু যখন তখন ব্যথানাশক ওষুধ লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কেননা, ব্যথানাশক ওষুধে ব্যবহৃত নানা যৌগ লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে লিভারের ক্ষতিসাধন করে। তাই কখনওই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।

৬. কায়িক শ্রম
সারা দিন কত ক্ষণ হাঁটেন? বা কী কী কায়িক পরিশ্রম করেন? শারীরিক শ্রম শরীরে মেদ জমতে দেয় না। ফলে লিভারে ফ্যাট জমে না ও লিভার সুস্থ থাকে। তাই দিনে অন্তত ৩০মিনিট হাঁটুন। ছোটখাটো কাজগুলো নিজেই করুন।

৭. সঠিক পরিমাণে পানি
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পানের অভ্যাস করুন। পানি টক্সিন সরিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরিমাণে পানি খান। প্রতিদিন অন্তত ৪/৫লিটার পানি পান করুন।

আরও পড়ুন আবারো পর্দায় নওশাবা

আরও পড়ুন

আমলকির যত উপকারিতা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে... বিস্তারিত এখানে

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে নিয়মগুলো মেনে চলবেন-

৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে চাইলে এই ১০ টা নিয়ম... বিস্তারিত এখানে