শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ ইং | অগ্রহায়ণ ১৩, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ রবিউস সানী, ১৪৪২ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অটোমোবাইল / কার / হাইব্রিড গাড়ি কি?

হাইব্রিড গাড়ি কি?

অটোমোবাইল বাজারে এখন নতুন আকর্ষণ পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি। এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী অত্যাধুনিক যান। দাম একটু বেশি হলেও হাইব্রিড গাড়ি অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী। এ কারণে বিশ্বে এ গাড়িটির ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে।

হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মুলত, হাইব্রিড গাড়ি এমন ইঞ্জিন ব্যবহার করে যার সাথে এক বা একাধিক বিদ্যুৎ চালিত মোটর সংযোজিত থাকে।

হাইব্রিড গাড়ি বলতে বোঝায় এমন একটি গাড়ি, যার ইঞ্জিন সাধারণ ফুয়েল; যেমন তেল বা গ্যাস আর একটি ভিন্ন ফুয়েল সোর্স যেমন বিদ্যুতের মধ্যে সুইচ/পরিবর্তন করতে পারে। বেশির ভাগ হাইব্রিড গাড়ি তেল ও বিদ্যুতের সমন্বয়ে চলে, আর কখন কোন পাওয়ার সোর্সটি বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী হবে, তার ওপর ভিত্তি করে পাওয়ার সোর্স বদলায়। যখন গাড়ির ইঞ্জিনশক্তির খুব বেশি দরকার হয় না, যেমন যখন ধীরে ধীরে চালাচ্ছেন কিংবা জ্যামে আটকে আছেন, তখন গাড়িটি ব্যাটারিতে স্টোর করা বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করবে। আবার যখন মহাসড়কে বা অনেক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাবেন, তখন গাড়িটির পেট্রল বা ডিজেল ইঞ্জিনটি কাজ করে এবং একই সাথে এর ব্যাটারি রিচার্জ করতে থাকবে।

হাইব্রিড গাড়ি আর বৈদ্যুতিক গাড়ির মধ্যে পার্থক্য কী?
অনেকেই হাইব্রিড আর বৈদ্যুতিক গাড়ির তফাতটা ধরতে পারেন না। দুটি গাড়িই গাড়ির ইঞ্জিনে গ্যাসোলিন ফুয়েলের খরচ কমানোর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কিন্তু বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্লাগ-ইন করে চার্জ করতে হয়, আর গাড়ি কত দূর চলবে সেটাও নির্ভর করে এর চার্জের ওপর। অন্যদিকে হাইব্রিড গাড়ি তেল বা গ্যাস এবং বিদ্যুৎ দুটোর ওপরেই চলে। যদিও সম্প্রতি হাইব্রিড গাড়িও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বাজারজাত করেছে, যাকে একটা সোর্সে প্লাগ-ইন করে চার্জ করতে হয়।

হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা

১. ফুয়েল এফিসিয়েন্সি

হাইব্রিড গাড়ি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে ফুয়েল ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাই শেষ পর্যন্ত ফুয়েল খরচ হয় কম। এটার ফুয়েল এফিসিয়েন্সি রেটিং সবচেয়ে ভালো, আর তাই আজকের দিনের সবচেয়ে ফুয়েল এফিসিয়েন্ট গাড়িগুলোর মধ্যে হাইব্রিড গাড়ি অন্যতম। যেখানে টয়োটা ক্যামরির সাধারণ ২.৫ লিটারের পাওয়ারট্রেন গ্যাসোলিন মডেলের মাইলেজ ১১.৮ কিমি/লিটার, সেখানে এর হাইব্রিড মডেলের মাইলেজ প্রায় ১৮.৩ কিমি/লিটার―যা এর গ্যাসোলিন মডেল থেকে ৩৫.৫% বেশি ফুয়েল এফিসিয়েন্ট।

২. পরিবেশবান্ধব

পরিবেশের প্রায় ৫১% কার্বন ডাই-অক্সাইড আসে যানবাহন থেকে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির মতে, ১০০ মাইলের একটি সফরে একটি সাধারণ গাড়ি ৮৭ পাউন্ড কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে ছাড়ে, আর সেই তুলনায় হাইব্রিড গাড়ি ছাড়ে মাত্র ৫৭ পাউন্ড। এ কারণে হাইব্রিড কার কমিয়ে আনে আপনার কার্বন ফুটপ্রিন্ট।

৩. ব্যাটারি মেইনটেন্যান্স খরচ কম

ইঞ্জিন কনস্ট্রাকশন-এর কারণে হাইব্রিড গাড়ি এখনো বিলাসবহুল গাড়ি হিসেবে গণ্য করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হোন্ডা হাইব্রিড সিভিক-এর বেজ মূল্য ,৩৩৫ (আনুমানিক ২১.৫ লক্ষ টাকা), অথচ হাই-এন্ড হোন্ডা এক্স-এল এর মূল্য শুরুই হয় ,৩৪০ (আনুমানিক ১৯ লক্ষ টাকা) থেকে। একে কারণে বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির সমপরিমান মূল্য দিয়ে আপনি আরও বড় এবং বিলাসবহুল গাড়ি কিনতে পারেন।

২. বাংলাদেশে সঠিক অবকাঠামোর অভাব

বাংলাদেশের বাজারে হাইব্রিড গাড়ি এখনো নিজের জায়গা করে নিতে পারেনি। প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি চালানোর মতো সঠিক অবকাঠামো বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। এমনকি অনেক উন্নত দেশেও একই অবস্থা, একেবারে শহুরে এলাকা ছাড়া কথাও গাড়ি রিচার্জ করার জায়গা নেই। তার ওপর বাংলাদেশে লোড-শেডিংয়ের কারণে একটানা গাড়ি চার্জ করতেও সমস্যা হবে। পরিশেষে, হাইব্রিড গাড়ির জন্য কোনো অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টার নেই, আর আমাদের মেকানিকরা এই প্রযুক্তির সাথে এখনো অভ্যস্ত না।

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি

যে হাইব্রিড গাড়িটির বাংলাদেশের বাজারে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে, তা হলো টয়োটা প্রিয়াস। এই হাইব্রিড সাবকম্প্যাক্ট হ্যাচবাক গাড়িটি সর্বপ্রথম বাজারজাত হয় ২০১১ সালে, আর এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে জনপ্রিয়তা অর্জন করার পর বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। টয়োটা প্রিয়াসের আছে ১.৫ লিটার ১৬ ভালভ ২এনজেড-এফএক্সই ইঞ্জিনসহ ইলেকট্রিক অ্যাসিস্ট মোটর যা আপনাকে দেবে ২৪ কিমি/লিটার ফুয়েল ইকোনমি। এর ফুয়েল মোটরটি ৯৯ হর্সপাওয়ার আর ১১১ নিউটন মিটার টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম, আর এর ইলেকট্রিক মোটরটি তৈরি করে ৬০ হর্সপাওয়ার আর ১৭০ নিউটন মিটার টর্ক।

আরও পড়ুন

জুভেন্টাসের কোচ হচ্ছেন আন্দ্রে পিরলো

৩১ জুলাই ২০২০

জুভেন্টাস অনূর্ধ্ব ২৩ দলের কোচ নির্বাচিত হয়েছেন আন্দ্রেয়া পিরলো। এখনো... বিস্তারিত এখানে

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে নিয়মগুলো মেনে চলবেন-

৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানিতে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে চাইলে এই ১০ টা নিয়ম... বিস্তারিত এখানে