সোমবার, মার্চ ২৫, ২০১৯ ইং | চৈত্র ১১, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / অর্থ ও বাণিজ্য / ১০ বছরে বিপিডিবির লোকসান ৫০ হাজার কোটি টাকা

১০ বছরে বিপিডিবির লোকসান ৫০ হাজার কোটি টাকা

বকেয়া বিলের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের লোকসানও বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত গত ১০ বছরে বিপিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ গত অর্থবছরও প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। তার আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছর ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও ৭ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছিল বিপিডিবি।

জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সরকারি, আধাসরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট পর্যায়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিতরণ কোম্পানিগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। আর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বকেয়া বিলের যে তথ্য দিয়েছিলেন তাতে এর পরিমাণ উল্লেখ ছিল ৫ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা।

শুধু বকেয়া বিল নয়, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় লোকসানও বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত গত ১০ বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এখন হয়তো এ লোকসান আরো কিছুটা বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে উচ্চ ব্যয়ের বিদ্যুৎ ক্রয় সীমিত হয়ে আসবে। লোকসানও তখন কমে আসবে।

জাতীয় সংসদে গতকাল লিখিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি, আধাসরকারি ও প্রাইভেটে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের তথ্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বকেয়া আছে প্রাইভেটে, যার পরিমাণ ৫ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। এরপর সর্বোচ্চ বকেয়া আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে, ৭৬৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া ৬৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বকেয়া বিদ্যুৎ বিলেরও তথ্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, ৩২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরপর সবচেয়ে বেশি বিল বকেয়া রেখেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ১৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর সবচেয়ে বেশি বকেয়া রেখেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়, যার পরিমাণ ১২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া ৭৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা বকেয়া রেখেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬২ কোটি ৫০ লাখ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪৯ কোটি ২২ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৪৩ কোটি ১২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছে।

এর বাইরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ২৪ কোটি ৪২ লাখ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৩ কোটি ১৭ লাখ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৮ কোটি ২১ লাখ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১১ কোটি ৫৫ লাখ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বকেয়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে, ২০ হাজার টাকা।

এ বকেয়া আদায়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এসব বকেয়া বিল আদায়ে টাস্কফোর্স গঠন করে ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। এর বাইরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ বিল খাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

টাকার মান কমছে

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দিন দিন দেশের টাকার মান কমছে। গত ১০ বছরে ডলারের... বিস্তারিত এখানে

১২৪ কোটি টাকায় রাশিয়া থেকে কেনা হবে ৫০ হাজার টন গম

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

টন প্রতি ২৯৪ দশমিক ৯৫ ডলার দামে রাশিয়া থেকে ৫০... বিস্তারিত এখানে