সোমবার, মার্চ ২৫, ২০১৯ ইং | চৈত্র ১১, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরি

বার্তাপ্রতিক্ষণ / সংবাদ / জাতীয় / ৫০ বছরের মধ্যে বাঘের বাস যোগ্যতা হারাবে সুন্দরবন

৫০ বছরের মধ্যে বাঘের বাস যোগ্যতা হারাবে সুন্দরবন

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন গবেষকের এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে আবাসস্থল হ্রাস পাবে প্রায় ৯৭ শতাংশ। আর ২০৭০ সালের মধ্যে বাঘের আবাসযোগ্যতা পুরোপুরি হারাতে পারে সুন্দরবন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—এ দুইয়ের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি হুমকিতে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আগামী পাঁচ দশকের মধ্যে বাঘের আবাসযোগ্যতা হারাবে ম্যানগ্রোভ বনটি।

পৃথিবীর মোট বাঘের প্রায় ৬৭ শতাংশ রয়েল বেঙ্গল টাইগার উপপ্রজাতির। এসব বাঘের অধিকাংশেরই আবাসস্থল সুন্দরবন। পৃথিবীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে একমাত্র সুন্দরবনেই বাঘের উপস্থিতি দেখা যায়। ভৌগোলিক অবস্থানজনিত কারণে পৃথিবীর দীর্ঘতম ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডেল্টা সিস্টেমগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে সুন্দরবন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখানকার বৃক্ষরাজি, লবণাক্ততা ও পলিপ্রবাহে এরই মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সুন্দরবনের অধিকাংশ এলাকার গড় উচ্চতা এক মিটারেরও কম। এ কারণে বনাঞ্চলটির সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকিও উচ্চমাত্রার।

এ ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েই একটি গবেষণা করেছেন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ গবেষক। ‘কম্বাইন্ড ইফেক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সি-লেভেল রাইজ প্রজেক্ট: ড্রামাটিক হ্যাবিটেট লস অব দ্য গ্লোবালি এনডেঞ্জারড বেঙ্গল টাইগার ইন বাংলাদেশ সুন্দরবনস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক জার্নাল এলসেভিয়েরে সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ সেগুলোর অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যেই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ও আবাসযোগ্য এলাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হ্রাস পাবে। ২০৭০ সালের মধ্যেই প্রাণীটির আবাসস্থল হিসেবে উপযোগিতা হারাবে সুন্দরবন।

সুন্দরবনের শুধু বাংলাদেশ অংশ (৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার) নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়। আগের এক সমীক্ষায় এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বাঘের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ তথ্যকেই সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের মোট বিচরণভূমি হিসেবে ধরে নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়। বন্যপ্রাণীটির আবাসস্থল হিসেবে সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব নিরূপণের জন্য এখানে বাঘের ভবিষ্যৎ বিন্যাসের একটি মডেল তৈরি করা হয়। এজন্য ম্যাক্সএন্ট (ম্যাক্সিমাম এন্ট্রপি মডেলিং, সম্ভাবনা বিন্যাসের পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল), বাঘের বর্তমান বিন্যাস, ভূমি ও বায়োক্লাইমেটিক ভ্যারিয়েবলের তথ্য ব্যবহার করা হয়। বায়োক্লাইমেটিক ভ্যারিয়েবলে বাঘের ভবিষ্যৎ আবাসস্থল চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহার করা হয় ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) প্রণীত ভিন্ন দুটি ক্লাইমেট সিনারিও মডেল (আরসিপি ৬.০ ও আরসিপি ৮.৫)। এছাড়া আগামীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত তথ্যকেও বাঘের ভবিষ্যৎ বিন্যাসের মডেলের সঙ্গে একীভূত করা হয়। গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য রেফারেন্স ইয়ার ধরা হয় ২০৫০ ও ২০৭০ সালকে।

আরও পড়ুন

সমাপনী পরীক্ষা

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ

২৪ মার্চ ২০১৯

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।... বিস্তারিত এখানে

সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ আর নেই

২৪ মার্চ ২০১৯

অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ। সত্যি এবার চলে... বিস্তারিত এখানে